Offbeat

করোনা অতিমারিতে হারিয়েছে চাকরি, সংসার চালাতে চায়ের দোকান খুললেন 3 বি.টেক ইঞ্জিনিয়ার!

করোনা অতিমারির কারণে গত দুইবছর দেশের বহু মানুষ কর্মহীন হয়েছেন। লকডাউন ও অতিমারির থাবায় সাধারণ মানুষের জীবন অনিশ্চিয়তার পথে হাঁটছে। সেই কাজ হারানোর তালিকায় রয়েছেন কেরালার (Kerala) বিটেক ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া তিন যুবক আনন্দু অজয় (Anandu Ajay) ও মোহাম্মদ সাফি (Mohammed Safi) এবং তার ভাই মোহাম্মদ সানাভাস (Mohammed Shanavas)। তবে, তারা জীবন যুদ্ধে হেরে মানেননি। ‘বি.টেক চাই’ (B.Tech Chay) নামের একটি টি ষ্টল খুলেছেন। যেখানে ৫০ রকমের চা ও স্ন্যাকস পাওয়া যায়।

 

কেরালা কোল্লাম জেলার পল্লীমুক্কু এলাকায় NH-66 রোডের পাশে তারা ‘বি-টেক চাই’ স্টলটি দিয়েছেন। তবে এত সহজ ছিল না এই চায়ের স্টল দেওয়ার চিন্তা-ভাবনাকে বাস্তব রুপ দেওয়া। সহজ ছিল না নিজের পরিবারকে বোঝানো যে, তাদের বাড়ির ছেলে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে চায়ের দোকান দেবে। তার সাথেই এই ব্যবসা করার জন্য টাকার জোগাড় করা।

আনন্দু জানান – “আমরা সব থেকে আলাদা কিছু করতে চেয়েছি, নতুন কিছু করতে চেয়েছি। কারণ এখানে প্রচুর চায়ের দোকান আগের থেকেই আছে। সে কারনেই আমাদের কাছে একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ ছিল সবার থেকে আলাদা কিছু করা এবং এই ভিড়ের মধ্যেও নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। যেহেতু আমরা তিনজনই ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্ট ও চায়ের দোকান চালাবো ঠিক করেছি। তাই এর নাম রেখেছি ‘বি. টেক চাই’।

 

আনন্দু ও সাফি করোনার সময় নিজেদের কাজ হারান। তার ভাই সানভাস বাইরে কাজ করলেও তারও একই পরিস্থিতি হয়। যে কারণে সেও বাড়ি ফিরে এসে তাদের সাথে যোগ দেয়। এই বিষয়ে আনন্দু বলেন – “আমরা যেহেতু প্যান্ডেমিক সময়ে নিজের কাজ হারিয়েছিলাম। তখন থেকেই ইচ্ছা ছিল নিজেরা কিছু করবো। আমাদের খাবারের ব্যবসা করার ইচ্ছাই ছিল প্রথম থেকে। তবে প্রথমেই বিশাল বড়ো কোনো ইনভেস্টমেন্ট করতে রাজি ছিলাম না। যে কারণে রাস্তার পাশেই ছোট্ট করে এই ঠেলা গাড়ির মাধ্যমে ‘বি.টেক চাই’ দেওয়া হয়েছে”।

আনন্দুর বাবা এখনও মেনে নিতে পারেননি যে তার ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা ছেলে চা বিক্রি করে। তবে তার মা সাপোর্ট করেন। তবে সাফির পরিবার এদিক থেকে খুবই সাপোর্ট করে। এক বন্ধু তাদের ব্যবসা করার জন্য ১.৫ লক্ষ টাকা লোন দিয়েছে। যেখান থেকে এই ব্যবসাটি তারা শুরু করতে পারেন। এখন ৫০ ররমের চা সাথেই বিভিন্ন স্ন্যাকস পাওয়া যায়। Chatti pathiri, Kilikoodu, Unnakaya, Erachi ada, mutta petti-এর মতো দামে কম মানে ভালো ঘরোয়া স্নাক্স পাওয়া যায় সেখানে।

 

তাদের কথায় প্রতিদিন ১০০ জনের থেকেও বেশি মানুষ সেখানে আসেন চা খেতে। ডেইরি মিল্ক চা, বাদাম-পেস্তা চা, বাটার চাই, কেশর চা সহ আরও অনেক ধরনের চা পাওয়া যায় তাদের স্টলে। ৫ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ টাকা অব্দি চায়ের মূল্য ধার্য করেছেন তারা। ধীরে ধীরে তারা কেরালার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিতে চায় তাদের ‘বি. টেক চায়’-এর এই ব্রাঞ্চ। আনন্দু জানিয়েছেন – “আমরা অনেক মানুষকেই ভুল প্রমান করেছি। যদি কোনো কাজে ইচ্ছা থাকে তাহলে অবশ্যই সফলতা আসবে”।

 

Related Articles

Back to top button