×
NewsTrending

ফের শোকের ছায়া, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পর মারা গেলেন বিখ্যাত বাঙালি

সম্প্রতি প্রয়াত হয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মৃত্যুতে ইতিমধ্যেই শোকস্তব্ধ গোটা বাংলা। তবে, তার মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই ফের নক্ষত্রপতন বাংলায়। প্রয়াত হলেন বাংলার সাহিত্য জগতের অন্যতম লেখক আলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন তিনি। তবু থামেনি লেখা। জানা গিয়েছে, জার্মানিতে নিজ বাসভবনে রাত ৯ টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। লেখকের মৃত্যুর খবর দেন তাঁর স্ত্রী এলিজাবেথ।

ADVERTISEMENT

১৯৩৩ সালের ৬ অক্টোবর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত। এরপর ছোট থেকেই শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীতে পড়াশোনা করেছেন তিনি। তারপরে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে সাহিত্য নিয়ে উচ্চশিক্ষা শেষ করেন। তারপর প্রেসিডেন্সি কলেজে সাহিত্য নিয়ে পড়েন এবং অবশেষে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ভারতীয় কবিতায় গীতি নিয়ে তাঁর পড়াশুনার জন্য পিএইচডিপ্রাপ্ত হন।

এরপর সাহিত্যের ওপর পিএইচডি শেষ করার পরে, তিনি ১৯৫৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল অবধি কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগ ও বাংলা পড়িয়েছেন। এরপরে হিটলারের দেশ জার্মানি থেকে ডাক আসে। তারপর তিনি হাম্বোলড ফাউন্ডেশন ফেলোশিপে জার্মানি যান।

তাঁর জ্ঞানের ভান্ডার ছিল অফুরন্ত। তাঁর মতো একজন সাহিত্যিককে হারানো যে, বাংলার কাছে কতটা ক্ষতি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ১৯৯২ সালে ‘মরমী কারাত’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তাঁকে সাহিত্য অ্যাকা়ডেমি পুরস্কারের সম্মানিত করা হয়। তিনি নিজের লেখা কাব্যগ্রন্থ এবং কবিতা ও নাটকের জন্য পেয়েছেন বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছে অন্যতম ১৯৮৩সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুধা বসু সম্মান , ১৯৮৫ সালে আনন্দ পুরস্কার ,১৯৮৫ সালে প্রবাসী ভারতীয় সম্মান, ১৯৮৭ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার।

এমন একজন কবি আমাদের দেশে ছিলেন তা আমাদের কাছে সত্যিই সম্মানের,গর্বের। তিনি ভারতবর্ষকে গোটা বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছিলেন। তাঁর মতো একজন রত্নকে হারানো আমাদের কাছে বিরাট লসের। তবে, তাঁর কবিতার মধ্য দিয়েই সে সারাজীবন বেঁচে থাকবেন আমাদের কাছে। বাঁচবেন আমাদের প্রাণে। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ADVERTISEMENT

Related Articles